গন অধিকার পরিষদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে আগ্রহী রাজনীতিবিদেরা

নবঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ গন অধিকার পরিষদ গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন শ্রে্নী-পেশা-মত-পথের মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিশিষ্ঠ ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবি, আইনজীবি, সাংবাদিক এবং রাজনীতিবিদেরা গোপনে বা প্রকাশ্যে দলটির আহবায়ক রেজা কিবরিয়ার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে একটি বিশাল অংশ প্রবাসে থেকে নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এটি দলটির গঠনতন্ত্র এবং গনতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বিশাল ভুমিকা রাখবে বলে মনে করছেন পরিষদের নেতা কর্মীরা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর প্রাপ্ত কয়েক শত সেনা কর্মকর্তা সম্মিলিত ভাবে রেজা কিবরিয়ার সাথে অন লাইন প্লাটফরম জুমের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে দলে যোগদানের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। তারা জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সকল অবসর প্রাপ্ত সদস্য গন সচেতন আছেন।

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় নুর-রেজার আহবানে সাড়া দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব পীরে চরমোনাই ফয়জুল করিম। বাংলাদেশের সকল শ্রেনীর মানুষের অংশগ্রহন নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বিবাদমান রাজনৈতিক দলগুলো সব সময় চেয়েছে ইসলামকে সরিয়ে রেখে জনগনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে। নিজেদের ভেতর ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবে তারা সকল সমস্যার দায়ভার ধর্মের উপর দিয়ে এসেছে। রাজনীতি থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধকে আলাদা করার কারনেই সমাজে দূর্নীতি, হত্যা ও রাহাজানি। এই অবস্থায় ইসলামী দলগুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে গন অধিকার পরিষদ জনগনের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন করলো।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দল গুলোর চরম নিষ্ক্রিয় ভুমিকার প্রেক্ষিতে গন অধিকার পরিষদের উত্থান বলে দাবি করেছেন তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মোহাম্মদ। দেশের জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগনকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি মনে করেন। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে তিনি সব সময় গন অধিকার পরিষদের সাথে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “নূর একজন রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক। রেজা কিবরিয়াকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেলেও এদেশের বুদ্ধিজীবি সমাজ এখনো জনগনের পালস বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না। তাই আমাদের সবার উচিত, তাদের দুজনের মিলিত প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পায়।

“নূর একজন রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক। রেজা কিবরিয়াকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেলেও এদেশের বুদ্ধিজীবি সমাজ এখনো জনগনের পালস বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না। তাই আমাদের সবার উচিত, দেশ ও জনগনের স্বার্থে গনবান্ধব রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় দুজনের মিলিত প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পায়।”

আনু মোহাম্মদ

এদিকে নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষনা করায় রেজা-নুরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ডঃ সলিমুল্লাহ খান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এধরনের একটি রাজনৈতিক দল, যেটা হবে জনগনের দ্বারা পরিচালিত, এই দল তৈরী করতে আমাদের পঞ্চাশ বছর লেগে গেল। দলটির গনতান্ত্রিক কাঠামো বিনির্মানে তিনি তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এছাড়াও যারা দল ঘোষনায় শুভেচ্ছা জানিয়ে পাশে থাকার ইচ্ছা পোষন করেছেন, তাদের মধ্যে আছেন, কল্যাণ পার্টির জেনারেল ইব্রাহিম বীর প্রতীক, এলডিপির অলি আহমদ বীর বিক্রম, গনসংহতি আন্দোলনের জানায়েদ সাকি, জাসদের আসম আব্দুর রব, ঢাবি অধ্যাপক আসিফ নজরুল, তাজউদ্দিন পুত্র সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ, এবি পার্টির মজিবর রহমান মঞ্জু, সুজনের সাধারন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, এয়ার কমোডর এ কে খন্দকার বীর উত্তম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী খান সহ আরো অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সেই সাথে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে গন অধিকার পরিষদের শান্তিপূর্ণ মিছিল সমাবেশ হয়েছে। এসব মিছিল সমাবেশে জনগনের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহন ছিল। মিছিল থেকে, রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনে সাহায্য করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন নেতা কর্মীরা।

Spread the love