প্রযুক্তির আসল সুবিধাভোগী কারা?

জাফর ইকবাল সাহেবের একটা ইন্টারভিউতে পড়েছিলাম, তার বাসায় কোন টিভি ছিল না। টিভি মানে বোকাবাক্স। যা দেখানো হবে, তা-ই আপনি দেখতে বাধ্য। এই কনসেপ্ট তার পছন্দ নয়, তাই তিনি বাসায় টিভি রাখেননি। অবাক হয়েছিলাম বেশ। টিভি না থাকলে তো তিনি ম্যাকগাইভার, ইত্যাদি, কোথাও কেউ নেই- এগুলো দেখেন নাই। এ-ও সম্ভব? বয়স কম ছিল তাই বুঝতে কষ্ট হয়েছিল। পরে অবশ্য বুঝতে পেরেছি, অনেক কিছু ছাড়াই তো বড় হলাম! বড় হয়েও কতকিছুই না ছাড়তে হল! ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ সাহেব পরশু এসে বলছেন সামনের দশ বারো বছরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ধরন পালটে যাবে। সেখানে আপনার একটা ভার্চুয়াল আইডেন্টিটি থাকবে। আপনি বাসায় ঘরে শুয়েবসে থাকবেন, আপনার অবতার সেই ভার্চুয়াল জগতে ঘুরেফিরে বেড়াবে। তারা কেনাকাটা করবে, প্রেম করবে, চাকরি করবে- সব ওই রঙিন চশমা চোখে লাগিয়ে৷ আপনি খেয়েদেয়ে মোটাতাজা জাম্বু হবেন, কিন্তু কল্পনায় দেখবেন আপনি হৃতিক রোশানের মত সিক্সপ্যাক ফিগারের অধিকারী। অবতার মুভিতেও দেখানো হয়েছিল একজন খোঁড়া মানুষ ক্যাপসুলে শুয়ে থেকে মাথায় কিছু তার লাগিয়ে কল্পনার জগতে বিচরণ করে। একসময় সে ওই জীবনের প্রতি এতই মোহাবিষ্ট হয়ে যায়, যে রিয়েল লাইফে আর ফিরে আসতে চায় না। আমেরিকায় কিছু রিহ্যাব সেন্টার আছে, যেখানে ড্রাগ এডিক্টদের হসপিটাল বেডে শেকল দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। তাকে একটা ড্রাগ অল্প পরিমাণে দেয়া হয় সারাদিন ধরে আর মাথায় পরানো হয় সেই থ্রি-ডি ভিউয়ার গ্লাস। যেখানে সে দেখতে পায়, সে তার পরিবারের সাথে খাচ্ছে, ঘুমাচ্ছে, গল্প করছে। বেড়াতেও যাচ্ছে। অথচ বাস্তবে সে নাকে নল লাগিয়ে শুয়ে আছে, যেই নল দিয়ে ড্রাগ আর লিকুইড খাবার তার শরীরে ঢুকছে। কত বড় রকমের প্রতারণা, বলেন! অথচ এদিকে আমার নানির কোন ফেইসবুক একাউন্ট নাই। তার বয়স প্রায় ৮০। তিনি ফোনে কথা বলেন দিনে সর্বোচ্চ দুই তিন মিনিট, তার ছেলের সাথে। এখন কিছুটা অসুস্থ হলেও কিছুদিন আগে পর্যন্ত দিব্যি সুস্থ ছিলেন। নিজেই সব কাজ করতেন। বাচ্চাদের মোবাইল ফোন না দিতেও বারবার সতর্ক করে দেয়া হয়। সচেতন বাবা-মায়েরা সেটা চেষ্টা করেন। যদিও মোবাইলের ক্ষতিকর রেডিয়েশনের কথা আর শোনাই যায় না এখন। বিজ্ঞানের দরকার ছিল খোঁড়া মানুষকে প্রস্থেটিক পা লাগিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরার ব্যবস্থা করা। মাথায় তার লাগিয়ে তাকে একটা মিথ্যে দুনিয়ায় বিচরণ করানো নয়।কেউ এসে বলল না আগামী পনের বছরে ক্যান্সার নির্মূল হয়ে যাবে। আর কোন মহামারী ঘটবে না দুনিয়ার বুকে। কিন্তু ব্যবসা কিভাবে হবে সেটার একটা ধারণা ঠিকই দিয়ে গেল।

লেখাঃ শরীফ হাসান

https://www.facebook.com/sharif.hassan

Spread the love